২০১৪ এর জুলাই এ মদিনা মসজিদে একটি ঘড়ি দেয়াকে কেন্দ্র করে মূলত টিএসএস এর উত্থান। ঐ বছর ২৯ এ রমজান জুনিয়রদের উদ্যোগে গ্রামের পরিচিত বড় ভাইদের ইনভাইট করে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।  উদ্দেশ্য হচ্ছে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ্য করে কিভাবে সমাজের উপকার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা। প্রায় ৭০-৮০ জন জুনিয়র-সিনিয়র ভাইদের সম্মতিতে দল-মত নির্বিশেষে সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে অফিশিয়ালি টিএসএস বা তৃণমূল সমাজ কল্যাণ সংঘের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার প্রথম ৪-৫ বছর কোন প্রকার আফিশিয়াল কমিটি ছাড়াই টিএসএস কার্যক্রম পরিচালনা করে, ২০১৯ সালে প্রথম কমিটি গঠন করে জুনিয়রদের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সমুহঃ

প্রথমিকভাবে সদস্যদের মাসিক চাঁদার ভিত্তিতে টিএসএস এর কার্যক্রম গুলো পরিচালিত হয়। তারপর আস্তে আস্তে টিএসএসের কর্মকান্ড দেখে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়নে এগিয়ে আসেন যা এখনো অব্যাহত। টিএসএস প্রতি বছর রমজান ও ঈদে গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ঈফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরন করে আসছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার) মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় প্রতি বছর।
এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেঃ
  • ফ্রি মেডিকেল ক্যম্প আয়োজনঃ ২০১৭ সালে ১১ জন অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা এলাকার প্রায় ৫০০ রোগী কে (ক্ষেত্র বিশেষে ফ্রি ঔষধ সহ) চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
  • পাঠাগার নির্মানঃ প্রায় ৫০০ বইয়ের সুবিশাল ভাণ্ডার নিয়ে টিএসএস পাঠাগার নির্মান করা হয়েছে।
  • বিগত ৪-৫ বছর ছোটশালঘর ইছালে সাওয়াব মাহফিলের বিভিন্ন কার্যক্রমে (মাওলানা ইনভাইট, প্রচার প্রাচারনায় স্পন্সর হওয়া, গেইট নির্মান, রাস্তা লাইটিং ও শেচ্ছাশ্রমে) অংশগ্রহণ।ব্যক্তিগত সাহায্য প্রদান (যেমন- ছাগল প্রদান, দোকানের মাধমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বিধবা মহিলার মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য প্রদান, চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান উল্লেখযোগ্য)
  • গাংপাড় ট্রিপ্লান্টেশনে সহযোগিতা করা।
  • গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে বৃক্ষ রোপন অভিযান।
  • প্রবাসি ও এলাকাবাসীর সহায়তায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরনের ক্ষেত্রে টিএসএস অনবদ্য ভুমিকা পালন করে।
  • স্থায়ী স্ট্রীট ল্যাম্প নির্মান ৩০টি (প্রস্তাবিত)
  • এছাড়াও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান সহ অগণিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

বিরোধিতাঃ

১। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই টিএসএস এর ইফতার পার্টি ও বিভিন্ন প্রোগ্রামে এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অতিথি করা হত। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের মেডিক্যাল ক্যম্প এ এলাকার সব পক্ষের রাজনীতিবিদদের ইনভাইট করা হয়। অনুষ্ঠানের পর সেই ইনভাইটকৃত মেহমানের একটি নামকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি কারনে কিছু সদস্য বিরোধিতা করে। এর পর থেকে টিএসএস এর প্রোগ্রামে আর কোন মেহমান কে অফিসিয়ালি ইনভাইট করা হয়নি। কিন্তু টিএসএস তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
২। ২০১৪-২০১৮ সালের ইছালে সাওয়াব মাহফিলের কার্যক্রমে টিএসএস খুব ভালভাবেই সক্রিয় ছিল! সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে কালেকশন করার পূর্বে কোন কোন কাজে ব্যয় করা হবে তা ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেয়া হত। মাহফিলের কার্যক্রম পরিচালনা করার পরে উদ্বৃত্ত টাকা টিএসএসের মাহফিল ফান্ডে জমা থাকত, যা কুয়াশা রোধে ত্রিপাল কেনার উদ্দেশ্যে ফান্ডিং করা হচ্ছিল।
কিন্তু একটা পক্ষের ব্যাপারটা ভাল লাগেনি। তাদের মাহফিলে প্রচার-প্রসারে সৌজন্যে টিএসএসের নাম দেয়াটা পছন্দ হয় নি। প্রথমে বলতে লাগলো যে মাহফিলের ব্যানারে বা পোস্টারে টিএসএসের নাম দেয়া যাবে না। ব্যাক্তির নাম দেয়া যাবে কিন্তু কোন সংগঠনের নাম দেয়া যাবে না! তারপর অপপ্রচার শুরু করল যে টিএসএস মাহফিলের নামে টাকা তুলে সেই টাকা দিয়ে সামাজিক কাজ করে বা মেরে দেয়! শুধু তাই না তারা মাহফিল কমিটিকে পর্যন্ত প্রভাবিত করা শুরু করল।
২০১৮ এর মাহফিল মিটিঙয়ে টিএসএস কে ডাকা হল কিন্তু কোন সদস্যকে কথা বলতে দেয়া হলনা, কমিটি, এক পক্ষের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত দিলেন যে, পোস্টার বা ব্যানারে সৌজন্যে কোন নাম দেয়া যাবে না। তখন জনাব মোকাদ্দুস হুজুর দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে, “ভাল কাজে প্রতিযোগিতা থাকা ভাল, সৌজন্য দেয়া কোন সমস্যা না, অনেক বড় বড় মাহফিলেও সোজন্যে দেয়া হয়। টিএসএস সৌজন্যে দিলে আমি কোন সমস্যা দেখি না”। কিন্তু ওনাকে বসিয়ে দেয়া হয়।
টিএসএস সদস্যরা মাহফিল থেকে চলে আসলে, পরদিন আবার মিটিং বসে, কমিটি এবং মুরব্বিদের উপস্থিতিতে টিএসএস বিগত ৪-৫ বছরের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রদান করে, সাথে ট্যালি খাতাটাও দেখানো হয়। তখন একজন সর্দার বলেন, “টিএসএসএর সব ঠিক আছে, কার্যক্রমও ভাল এবং সঠিক! কিন্তু টিএসএস মাহফিলে কার্যক্রম করুক তা এক পক্ষ চায় না! এখন মাহফিল টিকিয়ে রাখতে হলে টিএসএস এর নাম মাহফিলে ব্যাবহার করা যাবে না”।
ঐ মিটিং এ কেউ কেউ পক্ষে কথা বললেও উচিৎ সিদ্ধান্ত কেও দেয় নি। “বিচার মানি তালগাছ আমার” টাইপের মিটিং এর পর টিএসএস সদস্যরা মাহফিলের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। পরবর্তিতে মাহফিলের কালেকশন এবং খরচের টোটাল বিস্তারিত হিসাব এবং অতিরিক্ত ফান্ডিং সহ কমিটির কাছে পাঠানো হয়।  আলহামদুলিল্লাহ্‌, একটি অপপ্রচারও কেউ প্রমান করতে পারে নি, উল্টো অপ্প্রচারকারিদের কয়েকজন ভুল বুজতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে।

টিএসএস ও অন্যান্য সংগঠনঃ

যে কোন ভাল কাজে উৎসাহ প্রদান টিএসএসের অন্যতম মূলনীতি। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামের যেকোন সংগঠন বা ব্যাক্তির ভালকাজ সমুহ টিএসএস প্রমোট করে উৎসাহিত করে থাকে! তার উদাহরন পাওয়া যাবে টিএসএসের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে অন্যান্য সংগঠনের কাজসমূহ নাম ম্যানশন করে প্রমোট করা হয়েছে একাধিকবার।
টিএসএস এর কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বা অন্য যেকোন উপায়ে গ্রামে সামাজিক সংগঠন যদি ১০০টিও গঠন হয় সবচেয়ে বেশি খুশি হবে টিএসএস! কারন টিএসএস এমন একটি সময় দেখার উদ্দেশ্যেই গঠন করা হয়, যেখানে সবাই তার গ্রাম নিয়ে ভাববে একে অন্যকে সহায়তা করবে মিলেমিশে গ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সুতরাং বিরোধিতা বা প্রতিদন্ধিতা না করে আসুন ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করি তাতে গ্রাম তথা সমাজের ই মঙ্গল।

টিএসএস কি উত্তর পাড়ার সংগঠন?

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে প্রথম দিকে টিএসএস এর সদস্যগন উত্তর ও মধ্য পাড়ার ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে টিএসএসের বিস্তৃতি হয়েছে, বর্তমানে গ্রামের সকল অংশ থেকেই কম বেশি সদস্য এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। তাছাড়া উত্তর পাড়ার সংগঠন বলার উপায় নেই এ কারনে যে, টিএসএস কার্যক্রম পরিচালনা করে পুরো গ্রামে। সুতরাং টিএসএস ছোটশালঘরের সংগঠন, ক্ষেত্র বিশেষে ইউনিয়িনেরও।
যাদের টিএসএস নিয়ে কিছুটা অভিযোগ অথবা মনমালিন্য আছে, আশা করি এই লিখার মাধ্যমে অনেক কিছুই ক্লিয়ার করা সম্ভব হয়েছে।
ধন্যবাদ, ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য!
ইকরান চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য
তৃণমূল সমাজকল্যান সংঘ (টিএসএস)